Gold (2018) মুভি রিভিউ | Gold (2018) Movie Review

Kawsar Ahamed August 16, 2018 Views 2590

★ Gold (2018) মুভি রিভিউ ★

লিখছি আমি : Kawsar Ahamed

╚●► মুভি ইনফো ◄●╝

●► মুভি : Gold
●► রিলিজ : 2018
●► জনরা : হিস্টোরিক্যাল , ড্রামা , স্পোর্টস
●► অভিনয়ে : অক্ষয় কুমার , মৌনি রয় , আমিত সাধ , কুনাল কাপুর
●► ডিরেক্টর : রীমা কাগতি

★ IMDB রেটিং : ৮.৮/১০
★ পারশনাল রেটিং : ৯.২/১০ 🙂

╚●► গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা যা না জানলেই নয় :

মুভিটি ১৯৪৮ সালের সর্বপ্রথম ইন্ডিয়া অলিম্পিক এ হকি তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ঠিক সেই প্লটের উপরেই এই মুভিটি। মুভিতে অক্ষয় কুমার ওরফে তপন দাস , ১৯৪৮ সালের সেই মহান দেশপ্রেমিক “কিষাণ লাল” এর ভূমিকা পালন করেছেন। এটি একটি কমার্সিয়াল ফিল্ম। তাই ছোটাখাট বিষয় কিছুটা চেঞ্জ করা হয়েছে দর্শকস্বার্থে 🙂

╚●► প্লট ◄●╝

তপন দাস (অক্ষয় কুমার) । একজন জুয়ারী , মিথ্যা বলে , নেশা করে। কিন্তু জীবনে সে দুটি বিষয় বড্ড ভালবাসে। ১ তার দেশ আর ২ হকি। প্রায় ১২ টি বছর কাটিয়ে দিয়েছেন শুধু একটি অপেক্ষায়। কবে অলিম্পিক শুরু হবে। বলে নেয়া ভাল যে ১৯৩৬ সালে অলিম্পিক হয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছর অফ ছিল। কারণ তখন বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। ১৯৩৬ সালে ভারত অলিম্পিক এ অংশগ্রহন করতো ব্রিটিশ ইন্ডিয়া হয়ে। ইন্ডিয়ান হয়েও তারা জিতলে নাম হয় ব্রিটিশদের। কিন্তু এ আর কতদিন? দীর্ঘ ১২ বছর পর এদিকে খবর পাওয়া গেল যে ইন্ডিয়া স্বাধীন হবে এবং আগামী ২ বছর পর অলিম্পিক শুরু হবে। সাথে সাথে এক টানে সোজা করে নিলেন নিজেকে। তরিগরি করে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন যেভাবেই হোক দেশের জন্য স্বর্ণপদক নিয়ে আসবেই আসবে।

অনেক কষ্টে অবশেষে সে ইন্ডিয়ান হকি টীম এর ম্যানেজার হয়। হাতে রয়েছে ২ বছর। খুব ভালভাবেই পাকাপোক্তভাবে ট্রেনিং চলছিল। হঠাত অলিম্পিক এর ৩/৪ মাস আগে ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়ার ফলে হিন্দু মুসলিম এ ভেদাভেদ দেখা যায়। এতে তাদের দল ভাগাভাগি হয়ে যায়। এত কষ্টের ফসল , আজ শূণ্য। হাতে আছে ৩-৪ মাস। নতুন টীম নিয়ে শুরু করেছেন। তার অদম্য চেষ্টা , তার আগ্রহ এবং তার ইচ্ছাশক্তি অবশেষে ভারতের মাটিতে জয় নিয়ে আসে। বিজয়ী হয় স্বাধীন ভারতীয় বিজয়ী হকি টীম হিসেবে। একজন ভারতীয়র কাছে এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় 🙂

╚●► যেসব দিক ভাল লেগেছে ◄●╝

ভাললাগা দিকগুলোর কথা বলে শেষ করা সম্ভব না! তাও কিছু মূখ্য বিষয়ে না বললেই নয়।

১। অক্ষয়ের অভিনয় : স্যার! আপনি কিভাবে পারেন এমন অভিনয়? অবাক হয়ে যাই আপনাকে দেখে। একজন অভিনেতা কিভাবে পারে প্রতিটি ভিন্ন ধাচের মুভি এবং অভিনয় উপহার দিতে? আলাদা কনসেপ্ট , আলাদা থিম , আলাদা ডায়লগ , সব কিছুতেই পটু তিনি। বলিউড তাকে খিলারী শুধু শুধুই ডাকে না।

২। পাকিস্তান এবং ভারত : আমার মতে এটাই একমাত্র ফিল্ম , যেটায় ভারত আর পাকিস্তান কে একসাথে দেখা গিয়েছে ?? মানে দুই দেশ একে অপরকে সাপোর্ট করেছে। যদিও বর্তমানে তা সম্ভব নয় :p কিন্তু ব্যাপারগুলো দারুন ছিল।

৩। ডায়লগ : ফার্স্ট ক্লাস ? অসাধারন সব ডায়লগ এবং ১৯৪৮ সালে কি ধরনের ডায়লগ ফিল্মে ইউজ করা উচিত , তাও খুব ভালভাবে ফুটে উঠেছে।

৪। লোকেশন , কাস্টিউম , ম্যাটেরিয়াল : ফিল্মে পুরো দিনের স্বাদ দিতে নির্ভুল লোকেশন এবং মানানসই কাস্টিউম অবশ্যই প্রয়োজন। এতে ফিল্ম দেখার সময় দর্শক সে সময়গুলোকে ফিল করতে পারে।

৫। অন্যান্যদের অভিনয় : মাইন্ড ব্লোয়িং ছিল। আমিত সাধ কে আমি মুভির ট্রেইলার এ দেখে ভেবেছি উনি তেমন ভাল পার্ফরম্যান্স দিতে পারবেনা। কিন্তু আমার ধারনা ভুল ছিল। সত্যিই সে দারুন অভিনয় করেছে।

৬। ফোকাস পয়েন্ট : বিভিন্ন মুভির মূখ্য বিষয় থাকে একটি , তারা ব্যাস্ত থাকে আরেক বিষয় নিয়ে। মানে মুভি যদি হয় ক্রিকেট। তারা ক্রিকেট এর চেয়ে ড্রামা নিয়ে ব্যাস্ত। এরকম প্লট না। মুভিতে ৬০% সময় ই হকি খেলা দেখানো হয়েছে যা মুভির প্লাস পয়েন্ট। এতে দর্শক বুঝতে পারে যে তাকে কি দেখানো হচ্ছে এবং এই ফিল্মের মোটিভ কি।

৭। গান : যদিও স্পেসাল কোন গান নেই। তবে একটি রোমান্টিক , দুইটি কমেডি এবং একটি দেশপ্রেমমূলক গান আছে যার ফলে মুভিতে একঘেয়ামী কাটিয়ে তুলবে দর্শককে। এই টাইপের মুভিতে মানানসই গান থাকা কাম্য।

৮। ফিনিসিং : ভাই , ফিনিসিং অসাধারন। শেষে যখন অক্ষয় কেদে দিলো , সিরিয়াসলী ভাই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর অক্ষয়ের কান্না দেখে যে কেউ তাকিয়েই থাকবে।

৯। পজিটিভিটি : কমার্সিয়াল ফিল্ম হলেও মুভির স্ক্রিপ্ট বেশ উন্নতমানের । ত্রুটিমুক্ত স্ক্রিপ্ট যাকে বলে।

╚●► যেসব বিষয় ভাল লাগেনি ◄●╝

১। প্রথম ভুল ছিল ফিল্মের শুরুর দিকে অক্ষয় প্রথম ধাপেই টীম ম্যানেজার হয়ে যায়। তারপর সে খেলোয়ার খুজে। কিন্তু দেখায় মাত্র ১ জন কে। মানে সে খুজেছে এক জনকে। আমি মনে করি ফিল্মে আরও ৩-৪জন কে খুজছে এরকম দেখানো উচিত ছিল। এতে ব্যাপারটা আরও ভালভাবে মানাতো। কারণ সে খুজল এক জন কে। তাহলে বাকিরা কি এমনিতেই উড়ে এসেছে?

২। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অনেক জায়গায় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দেয়া হয় নি। একটি ফিল্মের প্রাণ হল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যার মাধ্যমে দর্শক কে ফিল্মের অনুভূতি দেয়া হয়। এই না যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল না। ছিল , তবে অনেক জায়গায় মিস করেছে।

৩। ফিল্মে কাস্টিং কিছুটা কম ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে কিছু অভিনেতা আরও প্রয়োজন ছিল। যেমন অক্ষয়ের স্ত্রীর র বাবার বাড়ি। বা অক্ষয়ের আত্মীয়স্বজন। এই বিষয়গুলো ড্রামা মুভিতে থাকা আবশ্যক বলে আমি মনে করি।

ইত্যাদি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি। যেকোন ছোট বড় মুভি ক্রিটিক হিসেবে সকলের উচিত মুভির সকল বিষয়বস্তু মুভি দেখা শেষে যাচাই করা। এই না যে দেখেই বলে দিব ভাল বা মন্দ। নাহ , তেমনটা করা উচিত নয়। মুভি ক্রিটিক হিসেবে আপনাকে অবশ্যই মুভির সকল ভাল মন্দ দিক যাচাই করতে হবে। তাই হুট করে ভাল বা খারাপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। মুভিটি MLWBD .com পাবেন। প্রয়োজন হলে কালেক্ট করে নিন 🙂

লিখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাপার্থী ✌

Categories

Leave a comment

Name *
Add a display name
Email *
Your email address will not be published
Website

Download & Watch Online
x